
রাকিব হাসান নাঈম (Rakib Hassan Nayeem) ভাইকে আলাদা করে ধন্যবাদ। উনি আমাকে বাইকটি কিনতে আন্তরিক সহায়তা এবং দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন।এর আগে আমি ইয়ামাহা লিবারো 100 (২০০৭-৮), জংশেন 100, হিরো হোন্ডা সিডি ডন 100, টিভিএস স্ট্রাইকার 125 (২০১৭-২০১৮) চালানোর অভিজ্ঞতা অর্জন করি। ২০১৮ থেকেই কীওয়ে 150 চালিয়েছি প্রায় 17000 কিমি. সেটার দারুণ অভিজ্ঞতাই আমাকে বর্তমান কীওয়ে 165 সিবিএস কিনতে সাহস যুগিয়েছে।
অনেক কথাইতো বললাম… এবার আসি বাইক প্রসঙ্গে
◙ 165 সিসি লিকুইডকুল্ড ইফিশিয়েন্ট ফুয়েল ইঞ্জেকশন ইঞ্জিন ◙ তিনটি স্পার্ক প্লাগ ◙ 18 বিএইচপি ◙ ৬ স্পোর্টস গীয়ার।
আমি আগেই বিভিন্ন সাইট ঘেটে এই ফিচারগুলো দেখেই এই বাইকটি কেনার ইচ্ছা পোষণ করি। এবং আল্লাহর রহমতে, কোন অংশেই কমতি বা আঢ়ম্বরতা পাইনি। যা বলা তাই দেয়া। আমি এর মাঝে জিক্সার এসএফ 155 এবং কেটিএম ডিউক 200 চালিয়েছিলাম। তাই এই বাইকটির জোর আঁচ করতে আমার বেগ পেতে হয়নি।
এক্সিলারেশন মনেহয় যেন আমার মাইন্ডে ইন্সটল হয়ে গিয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ যেমন চাই তেমনই হয়। গিয়ার শিফটিং শুরুতে ২০০ কি,মি একটু স্টিফ থাকলেও বর্তমানে স্মূথ এজ ফোম। আমি ২য় গীয়ারে সর্বোচ্চ 52 কিমি এবং ৩য় গীয়ারে 95 কি,মি উঠিয়েছিলাম (বিশ্বাস না হলে এসে চেক করে দেখতে পারেন।) সর্বোচ্চ 112 কি.মি স্পীড উঠিয়েছি। আরো উঠতো তবে তেমন রাস্তা পাইনি। তবে এই বাইকের ১৩৫ কি.মি উঠানোর ভিডিও আছে। এবং এক ভাই নাকি ১৪০ ও পেয়েছেন। আমার বিশ্বাস হয়। কারণ ১১২কি.মি যখন তখন আমার এক্সিলারেটর অনেক বাকি ছিলো।
মনোশক এবজরভার তো নয় যেন একটা সোফায় বসে আছি। উঁচু নিচুতে কোনই ইফেক্ট পড়েনি শরীরে। তবে হ্যা ঢাকা সিটির ভেতর হাত ব্যথা করেছিলো। বারবার ক্লাচ প্রেসের কারণে, এখন সেটা নেই। পিলিওনরা উঠতে একটু সমস্যা পান। কিন্তু রাইডিংএ একদম স্মুথ।

ইঞ্জিন অয়েল হিসেবে 264 মটুল মিনারেল, 636ও 913 তে হুন্দাই সিন্থেটিক 10-40, 1300 ও 1985 তে রেপসল 10-40 ফুল সিন্থেটিক ব্যবহার করেছি। ২টি ফ্রি একটি শোরুম আরেকটি ক্যাম্পেইন সার্ভিস করিয়েছি।বডি কিট সুরক্ষার জন্যে স্টিক বাম্প বার লাগিয়েছি।, পেছনে ইয়ামাহা ফেজার ফাইএর শাড়ি গার্ড লাগানো হয়েছে। বাইকে ফুলবডি সিরামিক কোট করিয়েছি এবং সর্বশেষ সংযোজন নোভা এলইডি হেডলাইট।
বাইকের লুক দেখে সবাই বিমোহিত। আল্লাহর রহমতে সবাই এর প্রশংশাই করেছে। শুধু উচ্চতা নিয়ে অনেকেই মাতামাতি করলেও পরে বুঝেছে যে উচ্চতা কেন দরকার ছিলো। বাইকের বিস্তারিত বিবরণ কীওয়ের ওয়েবসাইটেই রয়েছে তাই সেগুলো সব কিছু এখানে উল্লেখ্ করছিনা।
বাইকের টায়ার কখনোই স্কীড করেনি। সামনে 100/80-17 আর পেছনে 140/70-17 কর্ডিয়াল টায়ার লাগানো। কর্ণারিং স্মুথ, এক্সিলারেশন রেডি পিক-আপ। কোন বাস ট্রাক ওভারটেকিংএ ৩ সেকেন্ডের বেশি সময় নেয়নি। সাধারণত ৫৫-৭৫ কি,মি স্পীডেই ওভারটেক করেছি। (এ সময় খুবই সতর্ক থাকতে হয়। স্পীড আছে দেখে সাই করে ওভারটেক করবেননা। আগে দেখে নিবেন বিপরীতে কি আছে।)
ড্রাগ রেসিং করেছি দুবার- ইয়ামাহা এফজি ফাই ২ আর এপাচি ৪ ভি। দুবারই সফলতার চেহারা দেখেছি। আর মাঝে মধ্যেই ইয়ামাহা আর১৫, জিক্সার এসএফ এদের সাথে পাল্লা দেয়া হয়েছে। সমান তালেও থেকেছি আবার অতিরিক্ত ট্রাফিক থাকলে আর অতিক্রম করিনি। কারণ আমার জীবনটাকে আমি আগে গুরুত্ব দেই।
একদিন ৮০+ স্পীড থেকে ১০ ফিটে ফুলব্রেক করতে সক্ষম হয়েছি। বেপরোয়া পিকআপের কারণে ব্রেকটি করতে হয় এবং আল্লাহ রক্ষা করেছেন। সিবিএস ব্রেক বিশাল নিয়ামক এসব ক্ষেত্রে। আমার পিলিওন তো জানের আশাই ছেড়ে দিয়েছিলো। পিকআপটি পেছন থেকে আমাকে রাস্তার মাঝে রেখেই ওভারটেককরে। আমি বাধ্য হয়েই একটা সিএনজির পেছনে দাড়িয়ে পড়ি। সিএনজিটিও আগে ব্রেক করে ছিলো। বাইকের বডিফিনিশিং কিন্তু ইয়ামাহা আর১৫ এর চেয়ে কম নয়। অনেকেই মিক্স করে ফেলেন। পেছনে কোন টায়ার মাডগার্ড ছিলোনা আমি একটা হাফ মাডগার্ড লাগিয়ে নিয়েছি।
মাইলেজ আমার অঞ্চলে (মফশ্বল) 35-40 পেয়েছি এবং বরাবরই অকটেন ব্যবহার করেছি। বাইকের টপ আমি যদি হাইওয়েতে যাওয়া হয় তখন চেক করবো। আশাকরি পরবর্তি রিভিউতে সেটা উল্ল্যেখ থাকবে। এখনো কোন লংটুরে যাওয়ার সুযোগ হয়নি। তাই লংরাইড একবারই ঢাকা টু লক্ষ্মীপুর (ভায়া ফেনী) 230+ কিমি।
নেগেটিভ দিক, বাইকের উচ্চতা, সামনের ভাইজরটা আরেকটু ভালো মানের হতে পারতো। হালকা হওয়ার কারণে কিছু আওয়াজ করে সেটা অবশ্য রাবার দিয়ে সমাধাণ করে ফেলেছি। কিট স্টিকার আরো কালারফুল করা যেত। পেছনে হাফমাডগার্ড প্রয়োজন।
নেগেটিভ দিক, বাইকের উচ্চতা, সামনের ভাইজরটা আরেকটু ভালো মানের হতে পারতো। হালকা হওয়ার কারণে কিছু আওয়াজ করে সেটা অবশ্য রাবার দিয়ে সমাধাণ করে ফেলেছি। কিট স্টিকার আরো কালারফুল করা যেত। পেছনে হাফমাডগার্ড প্রয়োজন।
ধন্যবাদ সবাইকে। দোয়া করবেন যেন সুস্থ থেকে সামনে আরো রিভিউ দিতে পারি।